তরুণ কে
- মারুফ আহমাদ

বার্ধক্য আশি বছরে নয়;
বার্ধক্য আসে মনে।
তারুণ্য আঠারোতে নয়—
আশিতেও জাগতে পারে জীবনে।

আশির অপরাধে যার চামড়া কুঁচকে গেছে,
পিঠ হয়ে গেছে কুঁজো—
অথচ এখনো সে
একা পথ চলতে দ্বিধা করে না—
তবে সেই তো আসল তরুণ,
বাকিরা বৃদ্ধ।

আঠারোর স্রোত যার দেহ ছুঁয়েছে,
কিন্তু মনে ঠাঁই পায়নি—
আর যাই হোক না কেন,
সে অন্তত তরুণ হতে পারেনি।

যে আঠারো মিছিলের ভিড় দেখে ভয় পায়—
সে তরুণ হওয়ার আগেই হয়ে গেছে বৃদ্ধ।
হোক না তার চুলে পাক ধরেনি,
থুতনিতে এখনো দাড়ি গজায়নি।

যে আঠারো গ্রেনেডের শব্দ শুনলে
মায়ের আঁচলতল খোঁজে—
অথচ যেই কুঁজো তার লাঠি জাগিয়ে ধরে—
এ দুইয়ের কাকে তুমি তরুণ বলবে?

যে আঠারো আলো ছাড়া বিকল;
অথচ যেই অন্ধ
অন্ধকারেও পথ খুঁজে নিতে জানে—
এ দুইয়ের কাকে তুমি দৃষ্টিমান বলবে?

যে আঠারো সকাল-সন্ধ্যা
আয়নায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে—
অথচ যেই আশির চোখে ভাসে
ক্ষত জাতির বিক্ষত প্রতিচ্ছবি—
এ দুইয়ের কাকে তুমি বরণ করবে?

যে আঠারো নিজেকেই শুধু
ভালোবাসতে জানে—
অথচ যেই আশি উজার করে দেয় নিজেকে—
এ দুইয়ের কাকে তুমি প্রেমিক বলবে?

যে আশি কাঁধে হাত রেখে বলে,
"আমি আছি তো, চলো!"
আর যে আঠারো দূরে দাঁড়িয়ে বলে,
"আমরা আছি তো, যাও!"
—এ দুইয়ের কাকে তুমি সারথি ভাববে?

যে আঠারো মলে মলে ব্র্যান্ড নিয়ে ব্যস্ত,
অথচ যেই আশি গলিতে গলিতে
খুঁজে ফেরে ক্ষুধার্ত শিশু—
এ দুইয়ের কাকে তুমি আধুনিক বলবে?

যে আঠারো ল্যাম্পপোস্টে ব্যানার ঝুলিয়ে,
ফেরি করে মানবতা;
অথচ যেই আশি নিজের খাবার তুলে ধরে
ক্ষুধার্ত শুকনো মুখের সামনে—
এ দুইয়ের কাকে তুমি মানবিক বলবে?

যে আঠারো দিনভর স্ক্রিনে ট্রেন্ডিয়ে ব্যস্ত;
আর যেই বৃদ্ধ খবরের কাগজে খুঁজে ফেরে
জাতির মুক্তির নিশানা—
এ দুইয়ের কাকে তুমি বীর বলবে?

তারুণ্য হলো এমনই এক শপথ—
যা মানুষকে শেখায়
সত্যের প্রতি অটল থাকতে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর
এক অদম্য সাহসের নাম তারুণ্য।
মানবতার বিপর্যয়ে যে বক্ষ কেঁদে ওঠে
সেই বুকেই লালিত হচ্ছে তারুণ্য।
তারুণ্য হলো সেই আগুন—
বয়সে নয়, যার শিখা জ্বলে নির্ভীকতায়।
আর আশির বুকেও যদি সে আগুন জ্বলে—
তবে সে-ই আসল তরুণ।
বাকি সব—মরীচিকা।


১০-০৫-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026